আমাদের কথা
শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড হলে শিক্ষক শিক্ষার মেরুদন্ড। শিক্ষকগণ শিক্ষার আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে দেশের সন্তানদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব পালনে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা উৎসর্গ করবেন- এটাই সমাজের প্রত্যাশা। তাদের ফলপ্রসু শিক্ষাদান ও আত্বত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হবে শিক্ষার মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মর্যাদার সহিত বাঁচতে হলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
নারীদের জন্য শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নয়, বরং উচ্চ শিক্ষা লাভ করতেও ইসলামের কোনো বাধা নেই। ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীশিক্ষার বিকল্প নেই। বিশেষ করে একটি পরিবারকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইবাদত করার পূর্বে এ সম্পর্কে শিক্ষা অর্জন করা সকলের উপর ফরজ। শিক্ষা লাভ করা থেকে নর-নারী কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। কেউ বিরত থাকতে পারবে না। আল্লাহপাক পুরুষকে যেমন শিক্ষা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন তেমন নারীকেও শিক্ষা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর বিধানে শিক্ষা অর্জন করা নর-নারীর সমান অধিকার। শিক্ষা ক্ষেত্রে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল করে মহান আল্লাহপাক সর্ব প্রথম যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশটাই হচ্ছে নর-নারীর জন্য শিক্ষা বিষয়ক। ইরশাদ হচ্ছে-‘পড় তোমার প্রভুর নামে” (সূরা আলাক: আয়াত-১)। শিক্ষা ছাড়া আল্লাহকে জানা বুঝা যাবে না বিধায় শিক্ষা অর্জন করা প্রথম ও প্রধান ফরজ। এই ফরজ কাজ থেকে বিরত থাকা মানেই সকল ক্ষেত্রে ধ্বংস ডেকে আনা।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আজ কোনাে সন্দেহ নেই। নারীরা দেশের মােট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। তাই এ নারীদের অশিক্ষার অন্ধকারে রেখে জাতি কখনাে উন্নতি করতে পারে না।
তাই জাতিকে উন্নতি করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। স্বাবলম্বিতা অর্জনে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীনকালে নারীরা সবকিছুর জন্য তাদের স্বামীদের উপর নির্ভরশীল ছিল। নারীর ভূমিকা মায়ের হলেও রাষ্ট্রীয় ও অর্থনীতিতে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আজ নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুরুষের সাথে নারী কল-কারখানায়, মাঠে কাজ করছে। নারীরা এখন প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তাই নারী শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।
এমন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে রেখেই কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ২ নং আকুবপুর ইউনিয়নের জাঙ্গাল গ্রামের প্রাণ কেন্দ্রে মনোরম পরিবেশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী “জাঙ্গাল বাদশা মিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়”প্রতিষ্ঠান অঙ্গনে প্রবেশ করলেই এর শান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজ বৃক্ষের সমারোহ যে কোন মানুষকে অভিভূত করে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার গুনগত মান, পরীক্ষার ফলাফল, সহ-পাঠ কার্যক্রম, শান্ত, স্নিদ্ধ পরিবেশ অতি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির খ্যাতি সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করে বহু শিক্ষার্থী আজ দেশে বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছে। আমরা চাই, এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে ছাত্রীরা আলোকিত মানুষ হিসাবে দেশের ও জাতির কাছে নিজেকে পরিচিত করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নত দেশ হিসাবে পরিচিত করতে প্রয়াস পাবে।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
একজন সুশিক্ষিতা মাতা জন্ম দিতে পারে একজন সুশিক্ষিত সন্তান, করতে পারে তাকে নিজের আদর্শে আদর্শিত। কারণ, ছেলে-মেয়েদের উপর মায়ের প্রভাবই বেশি পড়ে। মায়ের কাছ থেকে তারা আচার-আচরণ, আদব-কায়দা ইত্যাদি শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের প্রভাব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নেপােলিয়ন বলেছিলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তােমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।”
এরই ধারাবাহিকতায় জাঙ্গাল গ্রামের স্বপ্নদ্রষ্টা মরহুম সিরাজউদ্দিন আহম্মদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে তাঁহার সুযোগ্য উত্তরাধিকারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার বিশিষ্ট জনের সু-পরামর্শে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ২ নং আকুবপুর ইউনিয়নের জাঙ্গাল গ্রামে কোম্পানিগঞ্জ-নবীনগর সড়কের পাশে মনোরম পরিবেশে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “নারী শিক্ষার এক অনন্য পাদপীঠ” “জাঙ্গাল বাদশা মিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়”। যা সুদীর্ঘ ২৯ বছর ধরে এই জনপদে নারী শিক্ষার আলো বিস্তার করে যাচ্ছে। আধুনিক ও যুগোপযোগী লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে এ প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
জ্ঞানের রুদ্ধ দ্বারকে খুলে দেয়ার জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। মানুষ তাঁর যা কিছু শ্রেষ্ঠ তার সবটুকুই অর্জন করেছে শিক্ষা দ্বারা। শিক্ষাই হচ্ছে মানব জীবনের সার সংক্ষেপ । বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান, পাঠ্যক্রম নির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানার্জনে পারদর্শী করার লক্ষ্যে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষাপঞ্জি অনুসরণ করা হয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাকৃতিক শোভায় গড়ে ওঠা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পদচারণায় সদা মুখর হয়ে ওঠে। সুযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকমন্ডলী কর্তক শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পড়ালেখার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ ও সুযোগ্য পরিচালনা পরিষদ সদা সচেষ্ট এবং বিদ্যালয়ের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ও তৎপর। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য নিয়মিত সহপাঠ্য – ক্রমিক কার্যাবলী, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বির্তক ইত্যাদি চালু আছে। ছাত্রীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের অভিভাবকদের সাথে শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দের নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে –শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হয়। এর ফলে শিক্ষা বিষয়ে অংশ গ্রহণ, চরিত্র গঠন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান যেমন সহায়ক হবে, তেমনি এর মাধ্যমে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, লেখাপড়ার অগ্রগতি, জ্ঞানার্জনে অনুসন্ধিৎসা, তার কর্মতৎপরতা ও – ভবিষ্যত লক্ষ্য ইত্যাদি সম্পর্কে সজাগ থাকতে সহায়ক হবে। এ কথাগুলোর বাস্তব রুপ দেওয়াই এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য।